বলি আমি বীরের মত,
কখনো করিব না মাথা নত।
চলিব সদা বীর হয়ে,
এই ভুবনের পথ দিয়ে।
যেখানেই দেখিব অন্যায়,
সেখানেই দেব বাধা নির্দ্বিধায়।
বিপদে আমি ধরিব ধৈর্য।
হইব না কভু অধৈর্য।
মহাপুরুষের আদর্শে হইব আদর্শিত,
অন্যকেও এমন হইতে করিব অনুপ্রাণিত।
নিজেকে করিয়া তুলিব চরিত্রবান,
মানবপ্রেমে থাকিব সদা মহীয়ান।
সবার সাথে করিব সদ্ব্যবহার,
পরোপকার করিতে ভুলিব না কোনোবার।
যে হইবে আমার অমিত্র,
তাকেই করিব ক্ষমার পাত্র।
দারিদ্রতায় থাকিব সদা অচঞ্চল,
ঐশ্বর্যের প্রতি হইব না কভু চঞ্চল।
কুসংস্কারকে দেব না কভু প্রশ্রয়,
আত্ববিশ্বাসে থাকিব নিঃসংশয়।
জ্ঞানের প্রতি আনিব মনের সাধ,
সফলতায় ভরিবে জীবন নির্ঘাত।
কোনো কাজে হইব না কাপুরুষ,
জীবন সংগ্রামে হইব বীরপুরুষ।
ভক্তি শ্রদ্ধা করিব গুরুজনে,
আদবের সহিত চলিব এই জীবনে।
গুরুজনের উপদেশ মানিয়া গড়িব নিজের জীবন,
পরিশেষে পাইব ইহার উত্তম ফলন।
বিপথে চলিয়া করিব না জীবনকে অন্ধকার,
ইহাই আমার একমাত্র অঙ্গিকার।
বাংলার প্রকৃতিকে আমি
সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি,
বাংলার প্রকৃতিকে দেখলে
আমার মুখে আসে মৃদু হাসি।
বাংলার প্রকৃতি আমায়
বাঁচতে অনুপ্রাণিত করে,
বাংলার এই প্রকৃতিই
সাহস জাগায় আমার অন্তরে।
সুজলা-সুফলা-শস্য- শ্যামল
আমাদের এই দেশ,
ষড়ঋতুর বিচিত্র রূপের
নেই যেন কোনো শেষ।
চেয়ে দেখি দূর-দূরান্তে
সীমাহীন মাঠ,
সেখানে আছে সোনালি ফসল
ধান আর পাট।
সবুজ শস্যের উপর দিয়ে
যখন বাতাস বয়,
বাংলার সবুজ সমুদ্রে
ঢেউ উঠেছে বলে মনে হয়।
বনের মাঝে আছে
অপরূপ সুন্দর গাছ আর ঘাস,
সেখানেই আছে অজস্র
জীব-জন্তুর বাস।
নদ-নদীর তরঙ্গের
কূলকূল শব্দের ধ্বনি ,
মানুষের মন থেকে
মুছে দেয় যাতনার কাহিনী।
বিচিত্র সব ফুলের
মনোমুগ্ধকর গন্ধে,
সব মানুষের মন
ভরে ওঠে আনন্দে।
নদীর তীরে ফুটে থাকে
অপরূপ সুন্দর কাশফুল,
হাওয়ায় সারাটা দিন
শুধু খায় দুল।
বাংলার প্রকৃতির ছায়াতলে
যখন আমি আসি,
মুখ থেকে বের হয়
বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
পল্লী হলো বাংলাদেশের
সব মানুষের প্রাণ,
পল্লী ছাড়া কোনো মানুষ
ভাবতে পারে না জান।
পল্লী মানুষের জীবনকে
করে তোলে আনন্দময়,
পল্লীই পারে মানুষের
জীবনকে দিতে প্রশ্রয়।
পল্লীর ক্ষেতে ক্ষেতে
ভরা থাকে ফসল,
পুকুর, ডোবা, নদী-নালায়
টলমল করে জল।
বৈশাখ মাসে কৃষক
ফসল তোলে ঘরে,
ফসল দেখে সবার
মন আনন্দে ভরে।
বর্ষার অবিরাম বৃষ্টিতে
যখন হয় বন্যা,
শুরু হয় পল্লীতে
সব মানুষের কান্না।
ফসল যখন তলিয়ে যায়
বন্যার পানিতে,
শুরু হয় দুর্ভোগ
কৃষকের ফসল কাটতে।
কৃষক প্রতিদিন যায় মাঠে
জমি চাষ করতে,
জেলে প্রতিদিন যায় বিলে
নানা রকম মাছ ধরতে।
মাঝি ভাই প্রতিদিন
নৌকা নিয়ে নদীতে যায়,
নৌকা চালায় আর
মনের সুখে গান গায়।
পল্লীর রাখাল ছেলে
গরু নিয়ে যায় মাঠে
নানান জিনিস ক্রয় করতে
মানুষ যায় হাটে।
ছোট ছোট ছেলেমেয়ে
নদীতে সাঁতার কাটে
সন্ধ্যেবেলা পল্লীর বধূরা
জল আনতে যায় নদীর ঘাটে।
খোলা মাঠে ছেলেমেয়ে
খোলা মাঠে ছেলেমেয়ে
খেলে অনেক খেলা,
প্রায় সময়েই নদীর তীরে
বসে নানান মেলা।
বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে
ভাওয়াইয়া-জারি-সারি গায়,
নবান্ন উৎসবে তারা
পিঠাপুলি খায়।
পাখির মধুর গানে প্রতিদিন
ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যায়,
মন যেন বলে ওঠে
পাখির কাছে যাই।
পল্লীর দৃশ্য দেখে
ভরে যায় মন,
পল্লীর জন্য পাগল হয়ে যায়
সব মানুষের প্রাণ।
যা চলে যায় চিরতরে
আসে না কভু ফিরে,
এটি খুব কঠিন জিনিস
সময় বলে তারে।
সময় হলো নদীর স্রোত
চলে আপন গতিতে,
কেউ কোনোদিন পারবে না যে
সময়কে ঠেকাতে।
সময় নিয়ে করবে যে
সদা অবহেলা,
সময় কিন্তু একদিন
দিবে তারে ঠেলা।
যে করবে সময়ের
সদা অপচয়,
সময় তার জীবনকে
করবে যে ক্ষয়।
যে কভু করবে না
সময়ের অপচয়,
একদিন তার জীবনে
আসবে নিশ্চিত বিজয়।
সময়ের ওপর নির্ভর করে
জীবনের জয় পরাজয়,
তাই কভু কেউ করবে না যে
সময়ের অপচয়।
সদা মোদের সবাইকে
ভাবতে হবে তাই,
সময়ের চেয়ে মূল্যবান
কোনোকিছু নাই।
পৌষ আর মাঘ
এই দুটি মাসে,
কুয়াশার চাদর গায়ে
শীত ফিরে আসে।
গাছের পাতায় জমছে শিশির
দুর্বা-ঘাসে দেখি তাই,
জলাশয়ের জল বাষ্প হয়ে
উড়ছে যে হাওয়ায়।
পাতা ঝরে গাছ
হয়ে যায় নগ্ন,
প্রকৃতি বুঝি মনে হয়
গভীর চিন্তায় মগ্ন।
ভোর সকালে ছাড়ে না বিছানা
বাহিরে ঠাণ্ডা গভীর,
ঠাণ্ডার ভয়ে ছোট বড় কেউ
যায় না ঘরের বাহির।
কুয়াশার চাদর ভেদে
সূর্য উঠে যখন,
ঘর ছেড়ে সবে বাহিরের দিকে
চলে যায় তখন।
পরনে শীতের কাপড়
ছোট বড় সবার,
সকালের পিঠাপুলি খেতে
কেউ বাকি থাকে না আর।
কনকনে শীতের দাপটে
থাকে শরীর নরম,
খরকুটো দিয়ে জ্বালায় আগুন
করে শরীর গরম।
মাঠ হয়ে যায় হলুদ
সর্ষে ফুলের রঙে,
মন হয়ে যায় পুলকিত
খেজুর রসের ঘ্রাণে।
কুয়াশার চাদর গুটিয়ে
ফিরে ফিরে চায়,
এমনি করে ধীরে ধীরে
শীত চলে যায়।
বাঙালি লড়াকু জাতি,
বাঙালি আঁধারের বাতি।
বাঙালি অকুতোভয়,
করে না মরণের ভয়।
করে না মাথা নত,
যদিও হয়ে যায় নিহত।
মানে না কভু হার,
জীবন হয়ে যাক জ্বলে ছারখার।
জীবন দিতে করে না সংশয়,
জিনিবার লাগি থাকে নিঃসংশয়।
বায়ান্ন-তে করেনি রক্তের ভয়,
একাত্তর-এ ছিনিয়ে আনে জয়।
শত্রুর আক্রমণে,
প্রতিরোধ করে দৃঢ় পণে।
হার মানায় শত্রুকে,
রক্ষা করে দেশকে।
মন করে শক্ত,
ঢেলে দেয় রক্ত।
কভু কেহ দামাতে পারে নাই,
বাঙালি বীরের জাতি তাই।
সমগ্র বিশ্ব আজ আতঙ্কিত,
সমগ্র বিশ্ব পাপের আগুনে প্রজ্বলিত।
অন্যায়-শোষন-নির্যাতন চলছে প্রতিদিন,
পাপের ফল তো পেতেই হয় একদিন।
মানুষ বোঝে না ন্যায়-অন্যায়,চেনেনা খোদা,
কার চেয়ে কে বড় হবে তার প্রতযোগিতা।
জাতিতে জাতিতে দন্দ, তার-ই তলে মরে লাখো মানুষ,
পাপের সমুদ্রে ডুবে মানুষ হারিয়েছে হুঁশ।
নেই সুশাসন, নেই ন্যায়নীতি,
বিশ্বের মূলে রয়ে গেছে রাজনীতি।
জাতের অহংকার, ধর্মের বিভেদ,
অন্যায়ের প্রতি নেই কোনো নিষেধ।
নিজ স্বার্থে দেয় মনোযোগ,
ডানে-বামে-সামনে-পিছে যা কিছু হোক।
হে মানব, তোমরা কি বোঝ না?
নিরীহের প্রতি অত্যাচার খোদার গায়ে সহে না।
হয়ত মানুষ বুঝবে একদিন,
কিছু করার উপায় থাকবে না সেদিন।
মানে না প্রভু,
প্রভুর দিকে দুটি হাত তুলে না কভু।
তাই আজ মোদের এই অবস্থা,
যা প্রতিকারের নাই কোনো ব্যবস্থা।
মোদের প্রতি প্রভু রাগান্বিত,
রোগে-শোকে-দুঃখে বিশ্ব তাই জর্জরিত।
প্রতিকার একটাই-প্রভুর কাছে প্রার্থনা,
ক্ষমা কর মোদের, ধ্বংস করো না।
আজ থেকে সবে হয়ে যাও সাবধান,
নইলে আসবে আজাব, এইতো প্রভুন বিধান।
প্রভুর কাছে মিনতি করে বল, হে প্রভু,
ভুল করেছ মোরা আর করব না কভু।
মনে পড়ে বায়ান্ন এর কথা,
যেই ঘটনা বাঙালির বুকে গাঁথা।
দামাল ছেলেরা ঝাঁপিয়ে পরে,
মাতৃ ভাষা রক্ষা করে।
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা করতে,
মাতৃভাষার মর্যাদা পেতে,
বাংলার ছেলেরা থাকে অটল,
এমন ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
রক্ত-রঞ্জিত হয় রাজপথ,
ঠেকায় তাঁরা শত বিপদ।
তবু তো দামেনি তাঁরা,
বাংলার সম্মান আনল যারা।
সহ্য করে নির্যাতন,
মৃত্যুকে করে নেয় বরণ।
ভাষার জন্যই শহিদ,
তাঁদেরই বলি ভাষা শহিদ।
থাকবে তাঁরা চিরস্মরণীয়,
বাঙালির হৃদয়ে বরণীয়।
এই বাংলা রবে যতদিন,
তাঁদের নাম থাকবে হৃদয়ে ততদিন।
স্থানে স্থানে গমন,
বলে তারে ভ্রমণ।
জানতে যদি চাও তব কর যে ভ্রমণ,
তার-ই মধ্যে হবে তোমার জ্ঞানের আহরণ।
ভ্রমণ পিপাসা আছে যার,
অভিজ্ঞতা বাড়ে তার।
দেশ বিদেশে ঘুরে,
তোমার জ্ঞান যাবে বেড়ে।
ভ্রমণে দেখা মেলে ভিন্ন ভিন্ন দেশ,
সেখানেতে কোন মানুষের কোন ধরনের বেশ।
ভিন্ন মানুষের সাথে হবে মেলামেশা,
বুঝবে তাদের সুখ-দুঃখ আর আশা।
আজো মনে পরে অতীত বাঙালির কথা,
সবে মিলে বসবাস করিত সেথা।
নাহি দন্দ, নাহি কলহ,
শুধুই ছিল সুখ, নাহি ছিল বিরহ।
কলা পাতায় গরম ভাতে,
বাঙালির পেট ভরিত তাতে।
পুরুষেরা পরিত ধুতি,
নারীর পরনের কাপড় সুতি।
হাতে বালা, কানে দুল,
গলায় মালা, খোপায় ফুল।
সুখে-দুঃখে তারা হয়ে যেত একাকার,
জীবন ছিল তাদের শুধুই ভালোবাসার।
আর কি ফিরিবে সে জীবন,
নাহ্, অতীত বাঙালির সুখময় জীবনের হইয়াছে মরণ।
যুগে যুগে কত প্রযুক্তি
হচ্ছে আবিষ্কার,
আদি থেকে অন্ত ইতিহাস
সাক্ষী আছে তার।
সহজ-সরল জীবন সবই
প্রযুক্তির ফলাফল,
প্রযুক্তি ছাড়া মানবজীবন
হবে না তো সফল।
সড়ক পথে গাড়ি
রেলপথে রেল,
আকাশপথে উড়োজাহাজ
কত তাদের খেল।
বাঁচাল সময়, কমাল শ্রম
শত শত যানবাহন,
ব্যবহার করে তা
করি সবে স্থানে স্থানে গমন।
সকল প্রান্তে করি যোগাযোগ
মোবাইল টেলিফোন দিয়ে,
লিখিত যোগাযোগ করি মোরা
ফ্যাক্স, ইমেইল দিয়ে।
টেলিভিশনে পাচ্ছি মোরা
গোটা বিশ্বের খবর,
জানতে পারি আবহাওয়া
তেমনি জানি হরেক রকম খবর।
প্রযুক্তি দেয় মোদের
নানান বিনোদন,
ফসলেতে দিয়েছে প্রযুক্তি
উচ্চমানের ফলন।
চিকিৎসাতে এনেছে প্রযুক্তি
বিরাট উন্নয়ন,
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে
পেলাম সুখী জীবন।
গ্রহ-নক্ষত্র-ছায়াপথ
প্রতিনিয়ত হচ্ছে আবিষ্কার,
মহাবিশ্বের ধারণা সবার
হচ্ছে পরিষ্কার।
বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়
প্রযুক্তির অবদানে,
প্রযুক্তি এখন হবে প্রয়োজন
জীবনের প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি আজ
রাখছে অবদান,
আজকের এই মানবসভ্যতা
প্রযুক্তির প্রতিদান।
পাশাপাশি দুটি মন
নেই কোনো দূরত্ব,
সুখে- দুঃখে একসাথে
এর নামই বন্ধুত্ব।
বন্ধুত্ব মানে বিশ্বাস আর ভালোবাসা
যাতে নেই কোনো ত্রুটি,
সারাজীবন একসাথে
থাকবে এই জুটি
সকল প্রকার প্রয়োজনে
বন্ধুরা এগিয়ে আসে,
সব ধরণের বিপদ-আপদে
বন্ধুরাই থাকে পাশে।
বন্ধুদের সাথেই গায় রোজ
সুখ-দুঃখের গান,
এক হাসিতে ভুলে যায়
ছিল যত রাগ-অভিমান।
হোক যত তর্কাতর্কি
ক্ষণে ক্ষণে সারাদিন,
সব যেন ধূলোয় মিশে
দেখা হলে পরদিন।
দলবদ্ধ দুষ্টামি আর খেলাধুলা
বন্ধুদের মাঝেই হয়,
বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়
আজীবন স্মৃতি হয়ে রয়।
স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি প্রেম,
একেই বলে দেশপ্রেম।
সব মানুষের মনেই থাকতে হবে তা,
তবেই তো দেশ হবে না পিছপা।দেশপ্রেম মানুষের মুখে মুখে না রয়,
এ অনুভূতি হৃদয়গভীরে থাকতে হয়।
দেশপ্রেমিকের কাছে দেশের ধন,
যেন অমূল্য রতন।
দেশের সংবিধান,
তার জীবন-মরণের বিধান।
দেশকে দেয় সর্বোচ্চ সম্মান,
দেশের ডাকে সারা দিতে থাকে প্রতীক্ষমান।
করে অন্যায়ের প্রতিবাদ,
ন্যায়কে জানায় সাধুবাদ।
স্বজাতির প্রতি অন্ধের মতো ভক্ত,
দেশরক্ষায় পর্বতের মতো শক্ত।
দেশের ক্ষতি যেন তার নিজের ক্ষতি,
বাড়াতে চায় সদা দেশের গতি।
দেশের উন্নয়নে যায় এগিয়ে,
জাতির সেবায় দেয় দুহাত বাড়িয়ে।
অটুট রাখে দেশের মান,
দেশের জন্য দিতে পারে তাজা প্রাণ।
তবে আজ দেশপ্রেমিক খুবই দুর্লভ,
প্রকৃত দেশপ্রেমিক পাওয়া হয় না সম্ভব।
আমাদের মনে দেশপ্রেমের অভাব,
আজ থেকে পাল্টাতে হবে স্বভাব।
এটাই মোদের আশা,
সব মানুষের প্রত্যাশা,
দেশের প্রতিটি নাগরিক,
যেন হয়ে ওঠে দেশপ্রেমিক।
দেশ থেকে আজ প্রায় বিলুপ্ত ন্যায়-নীতি,
পদে পদে ঘটে চলছে দূর্নীতি।
মানুষ বুঝে শুধু নিজ স্বার্থ,
ন্যায় আজ দূর্নীতির কাছে ব্যার্থ।
ক্ষণে ক্ষণে করে মানুষ দূর্নীতির ভাবনা,
দেশ তো তাই সামনে এগোতে পারে না।
অফিস-আদালত সর্বস্থলে অর্থের খেলা চলে,
নতুবা ফাইল কাগজ সব পড়ে থাকবে টেবিলের তলে।
আছে যার ক্ষমতার দাপট,
কোনো কাজে থাকে না তার সংকট।
ধনীরা গড়ছে সম্পদের পাহাড়,
গরিবেরা পাচ্ছে না দু’মুঠো আহার।
যায় যদি কেউ চাকরি পেতে,
মেধা নয়, অর্থ দিয়ে মানুষ মাপে।
চায় শুধু ঘোষ আর ঘোষ,
টাকার লোভে আজ তারা হারিয়েছে হুঁশ।
তবে বলছিনে, দূর্নীতি করে সবে,
নীতিবান মানুষ রয়েছে এ ভবে।
তারা দেশকে চায় কিছু দিতে,
কিন্তু আশাটুকু তলিয়ে যায় দূর্নীতির চাপে।
তারা পায় না কোনো ফল,
তাদের সাধনা হয়ে যায় নিষ্ফল।
লোখেমুখে শুনি, দশচক্রে ভগবান ভূত,
সত্যিই, বিষয়টা খুবই অদ্ভুত।
হায় আফসোস! নিজরাও করবে না ভালো,
অন্যকেও জ্বালাতে দেবে না আলো।
চাও কি ঘটাতে তোমার আত্মিক জাগরণ?
তবে কেনই বা কর না তুমি মেডিটেশন!
নিজের হাতে পেতে চাও মনের নিয়ন্ত্রণ?
এনে দিবে তোমায় তা মেডিটেশন।
মন ও মস্তিষের ঘটাবে সমন্বয়,
হবে তো সব সমস্যার নিরাময়।
মস্তিষ্কের ইশারায় হয় সব,
মন-ই তো মস্তিকের নিয়ন্ত্রক।
মন হতে পাঠাও বার্তা মস্তিষ্কের তীরে,
ডুবে যাও ছোট বড় স্বপ্নগুলোর ভীড়ে।
পারবে কি পারবে না-
ধারণাটি তোমায় এগোতে তো দেবে না!
“অক্ষমতা” বলে আছে এক শব্দ,
এটিই করে দেয় সকল কাজ যব্দ।
মেডিটেশন জাগাবে তোমার জীবনের প্রেরণা,
ঝেড়ে ফেল যত সব ভ্রান্ত ধারণা।
পরিবর্তনের ধারা মেডিটেশন,
ঘটাবে আত্মিক বিকাশ সাধন।
গভীর মনোযোগে হবে নিমজ্জন,
প্রকৃতি হতে হবে শক্তি আহরণ।
থাকবে না কিছু ভেতর বাহিরে,
তোমার অস্তিত্ব শুধুই রবে অন্তরে।
ছোট বড় স্বপ্নগুলো মনের ভেতর রাখ,
ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তা জীবনের সাথে বাঁধ।
তুমি শ্রেষ্ঠ অপরাজেয় এক মানব,
সব ভালো করবে তুমি আছে যত সব।
স্বপ্নগুলো সুপ্ত থাকে মানুষের মনে,
স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাবে মেডিটেশন প্রতিটি জীবনে।
জীবনের শুরুটা স্কুলে পা রেখে,
সদা যেন স্কুলটা স্মৃতি মেখে ডাকে।
জীবনের সাথে হয় নতুন পরিচয়,
স্কুলের সে জীবনটা কতই না মধুময়!
ছাত্র নামক পরিচয় স্কুল থেকেই হয়,
স্কুলজীবনের স্মৃতিগুলো মন-নদীতে বয়।
বন্ধুদের সংখ্যাটা থাকে অনেক বেশি,
একসাথে রয় সবাই খুব হাশিখুশি।
সবে মিলে ক্লাস আর শিক্ষকের শাসন,
ফাঁকে ফাঁকে দুষ্টামির কত যে বারণ।
শিক্ষকের কথা কেবল পড়া আর পড়া,
গোটাকয়েক ছেলেমেয়ে দুষ্টামিতে সেরা।
বয়স তখন কম, জ্ঞানও থাকে কম,
জনকয়েক শিক্ষক ছাত্রদের যম।
বাড়ির কাজ না করায় কত অজুহাত,
শুনতে হয় বকা আবার প্রহার তার-ই সাথ।
ক্লাসের ফাঁকে লুকিয়ে কত শত কথা,
তা দেখে শিক্ষকের মাথায় উঠে ব্যথা।
টিফিন টাইমে খাওয়া আর খেলাধুলা,
নানা স্থানে জমায় কেউ আড্ডার মেলা।
এক টিফিন কয়েকজনে করে নেয় ভাগ,
বাড়ে তাতে ভালোবাসা নাই কোনো রাগ।
স্কুলজীবনে ঘটে কত ছোট বড় ঘটনা,
ভালো পথে চলতে শেখায় মন্দ পথে মানা।
স্কুল পালানোর মজাটা ছিল খুব ভীষণ,
পরদিন পেতে হতো নির্ঘাত শাসন।
বন্ধু মিলে যুক্তি করে স্কুল ফাঁকি দেওয়া,
আর কি দিনগুলো হবে ফিরে পাওয়া?
হবে নাকো বলা আর- কাল স্কুলে যাবি?
বন্ধুগুলা ছিল এক মন রাঙানোর চাবি।
স্কুলজীবনটা কেনই বা দিয়ে দেয় বিদায়,
মুহূর্তটা যেন তখন খুব করে কাঁদায়।
সময় স্রোতের টানে বেড়ে ওঠে জীবন,
স্কুলজীবনটা মনে গেঁথে থাকবে আজীবন।
রাতের শেষ প্রহর
উদ্বিগ্ন অপেক্ষায়,
অস্থির হৃদয় বিস্মিত হয়
তারাগুলির মিটিমিটি খেলায়।
কি যেন এক আক্ষেপ;
মাথায় ভাবনার ঝড়,
সেকেন্ড যেন ঘন্টা;
বাঁচি শুধু অপেক্ষায় করে ভর।
একটি অনিশ্চিত ভাগ্য;
উত্তেজনায় পূর্ণ এক অনুভূতি,
একটি চিঠি, ফোন কল বা বার্তা;
পাব কি সুসংবাদের প্রতিশ্রুতি?
ঘড়ির কাঁটার পরিমিত আনন্দের টিকটিক;
সন্দেহের সাথে করি লড়াই সাথে উদ্বেগ,
গভীর মনে ভয়ানক আদেশ;
চাই আঁধার থেকে মুক্তির বেগ।
অবশেষে ভোর বিরতি;
এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শব্দ,
স্বস্তিতে শেষ উদ্বিগ্ন অপেক্ষা,
পাখির গান করে যব্দ।উত্তেজনাপূর্ণ অপেক্ষায়
আত্মিক শক্তি খুজে পাই,
শত পরীক্ষার মোকাবেলায়
সম্মুখ পথে হেঁটে যাই।
গভীর রাতের অপেক্ষা
অবশেষে নেয় পরিণতি,
যুদ্ধে মিলবে আত্মার গভীরতা
জ্বলে উঠবে আঁধারের বাতি।